আবারও পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে। রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি দুটি তেল পরিশোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। অন্যদিকে রাশিয়ার হামলায় প্রাণহানি হয়েছে ইউক্রেনে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন কিয়েভের হাতে মস্কোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার মতো প্রতিরোধক ফুরিয়ে এসেছে।
দূরপাল্লার হামলায় রাশিয়ার বাশখোরস্তান ও ইয়ারোস্লাভলের তেল পরিশোধনাগারে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এর মধ্যে ইয়ারোস্লাভলে হামলার কারণে শহরে ব্যাপক কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর তেল পরিশোধনাগারে হামলার পর জানান, এখন পর্যন্ত শত্রুপক্ষের ড্রোন আক্রমণের মধ্যে এটি বৃহত্তম। তিনি আরও জানান, ৯৩টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তেলের ট্যাঙ্কার ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, একাধিক অঞ্চলে মোট ৬০৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। তিনজন নিহত হয়েছেন।
বিবিসির খবর বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার অবকাঠামোতে ইউক্রেন একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে পরিশোধনাগার ও ওয়্যারহাউসও রয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণে অন্তত ১১ জন মারা গেছেন।
আলজাজিরার খবর বলছে, শুধু পূর্ব ইউক্রেনেই রাশিয়ার হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলার পর পূর্ব খারকিভের বালাকলিয়ায় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
রসদ ফুরিয়ে বিপাকে কিয়েভ
এদিকে ইউক্রেন গত বুধবার রাশিয়ার ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রও ভূপাতিত করতে পারেনি। দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি মিত্রদের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে ন্যাটো মহাসচিব জানান, ইউক্রেনের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রসদ পাঠানোর জন্য কাজ করছে জোটটি।
জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন, শীতের আগে মস্কো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এক জাতীয় সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আভাস দেন, পশ্চিমা মিত্ররা ইউক্রেনকে রসদ সরবরাহ না করলে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ছাড় দিতে হতে পারে তাদের।
প্রসঙ্গত, রাশিয়া গত বুধবার ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত হন। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত বলছে, রাশিয়ার ছোড়া ১১৫টি ড্রোনের মধ্যে ৯৮টি ভূপাতিত করতে পেরেছে তারা। তবে কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো সম্ভব হয়নি।
কৃষ্ণসাগরে মস্কোর হামলা
নিয়মিতভাবে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কবলে পড়ছে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর বন্দরগুলো। প্রাণহানিও হচ্ছে সেখানে অহরহ। ওদেসার এক ব্যক্তি জানান, তাঁর ক্রেন অপারেটর মাত্র পাঁচ মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে রুশ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। রাশিয়া মূলত ইউক্রেনের সঙ্গে বহির্বিশ্বের বাণিজ্য সক্ষমতাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে। বিবিসির খবর বলছে, রাশিয়া পুরো কৃষ্ণসাগর উপকূলে হামলা চালাচ্ছে।
দেশবার্তা/এমআর