অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা ৩০০ দিনের ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৩০০ শিশু। অর্থাৎ এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশুর জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে। শুধু মৃত্যুই নয়, চলমান এই হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছে আরও শত শত শিশু।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ।
উপত্যকাজুড়ে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর স্থল, আকাশ ও নৌপথ থেকে অবিরত গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা অঞ্চলে ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায়কে মাতৃভূমি থেকে উচ্ছেদের চক্রান্ত জোরদার করেছে দখলদার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।
মানবাধিকার সংস্থা ‘আল-বাইদার’-এর তথ্যমতে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) তাইবেহ গ্রামের পূর্বদিকের আরব আল-কাবনেহ সম্প্রদায়ের ওপর নতুন করে চড়াও হয় সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা, যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল পূর্ববর্তী দিনগুলোতেও।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গাজার শিশুরা বর্তমানে ভয়াবহতম স্বাস্থ্যসংকট, নিরাপদ পানির তীব্র অভাব ও অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। একইসঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের তান্ডবে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি হেবরনের তুবা এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৪টি শিশুসহ তিনটি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ওসিএইচএ-এর পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ১,৩৮০টিরও বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭টি হামলার ফলে এ পর্যন্ত ২,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে জেরুজালেমের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি টানা অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা দলও সেখানে পৌঁছাতে পারছে না। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং সহিংসতায় জড়িত দায়ীদের অবিলম্বে আন্তর্জাতিক জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।
দেশবার্তা/একে