গত সাড়ে পাঁচ বছরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫৭ কোটি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭২৪ কোটি টাকা। ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৭টি দেশ সফরের পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির সংসদ ভবন রাজ্যসভায় দেওয়া এক লিখিত জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। আম আদমি পার্টির (এএপি) এমপি সঞ্জয় সিং এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) এমপি ভি শিবদাসনের পৃথক এক প্রশ্নের উত্তরে এসব তথ্য তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিদেশ সফরে মোট খরচ হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৭ রুপি (প্রায় ৭৪.৫৯ কোটি রুপি)। এ সময়ের মধ্যে তিনি নরওয়ে, ইসরায়েল, ইতালি, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, স্লোভাকিয়া, সিশেলস, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ মোট ১৩টি দেশ ভ্রমণ করেন।
চলতি বছরের সফরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছিল নরওয়ে সফর, যেখানে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯০ রুপি। খরচের তালিকায় এর পরেই রয়েছে গত ফেব্রুয়ারির ইসরায়েল সফর; যার ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৮ রুপি।
এ ছাড়া পুরো সাড়ে ৫ বছরের পরিসংখ্যানে (২০২১ থেকে জুলাই পর্যন্ত) মোদীর মোট ব্যয় হয় ৫৫৭ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮ রুপি ৫৬ পয়সা। এর মধ্যে কেবল গত বছরই সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছিল ফ্রান্স সফরে, যার পরিমাণ ছিল ২৫ কোটি ৫৯ লাখ ৮২ হাজার ৯০২ রুপি।
রাজ্যসভায় প্রদত্ত জবাবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ইউপিএ সরকারের আমলের প্রধানমন্ত্রীর কয়েকটি সফরের ব্যয়ভারও তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই হিসেব অনুযায়ী, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সফরে খরচ হয়েছিল ১০ কোটি ৭৪ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৩ রুপি এবং ফ্রান্সে ব্যয় হয়েছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৩ রুপি।
অন্যদিকে, ২০১৩ সালে রাশিয়া ও জার্মানি সফরে যথাক্রমে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৭৬ হাজার ৮ ৯০ এবং ৬ কোটি ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮৪ রুপি খরচ হয়।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, প্রকাশিত এ হিসাবগুলো সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে তৈরি। এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রা বিনিময়ের হারের পরিবর্তন সমন্বয় করা হয়নি।
সাধারণত ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সূচিতে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ, অনাবাসী ও প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়, ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের পাশাপাশি থাকে রাষ্ট্রীয় ভোজসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব আয়োজন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ স্কোয়াড্রন দ্বারা পরিচালিত সর্বাধুনিক ‘এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান’ বিমানে ভ্রমণ করে থাকেন। তার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্পেশাল প্রোটেশন গ্রুপের (এসপিজি) কর্মকর্তা-সদস্যদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল অন্তর্ভুক্ত থাকে।
দেশবার্তা/একে