একাধিক কারাগারে দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও বন্দিদের পালানোর চেষ্টার মুখে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর প্রধান কারাগারসহ তিনটি কারাগারে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশটির জননিরাপত্তামন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ ও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেনা সদস্য পাঠানো হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কলম্বোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ‘ওয়েলিকাদা’ কারাগার থেকে প্রায় ৪০ জন দণ্ডিত বন্দি পালানোর চেষ্টা চালায়। কারারক্ষীরা তা প্রতিহত করার সময় গুলিবর্ষণে এক বন্দি নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
একইভাবে রাজধানী থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে কুরুভিটা কারাগারেও একই ধরনের অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দুই বন্দি নিহত ও ১৩ জন আহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে কলম্বোর উত্তরে পাল্লানসেনা কারাগারে প্রাতরাশ শেষে ৩০ জন বন্দি ছাদে উঠে সেলে ফিরতে অস্বীকৃতি জানালে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
শ্রীলঙ্কার বন্দিশালাগুলোতে তীব্র ধারণক্ষমতার সংকটই এই বারংবার ঘটে যাওয়া অস্থিরতার প্রধান কারণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে দেশটির কারাগারগুলোতে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বেশি বন্দি গাদাগাদি করে রয়েছে, যাদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি মাদক মামলার বিচারাধীন আসামি। ধারণক্ষমতা বাড়াতে পরিত্যক্ত সরকারি ভবনকে কারাগারে রূপান্তরের সরকারি পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে গত মাস থেকে রাজধানীর বাইরের দুটি পৃথক কারাগারে সহিংস দাঙ্গায় ১০ জন কারারক্ষী এবং ২৩ জন বন্দির প্রাণহানি ঘটে। পর পর ঘটা এই ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জননিরাপত্তামন্ত্রী।
দেশবার্তা/একে