স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের সার্বিক উন্নয়নে জাতীয় অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানান, টেকসই জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজ যখন এগিয়ে চলছে, তখন একটি নির্দিষ্ট চক্রান্তকারী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ অগ্রগতির দিকে এগোলেই দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র শুরু করে উল্লেখ করে তিনি এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশের সচেতন নাগরিক ও পেশাজীবীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
একই সাথে দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনকালে তিনি জানান, বর্তমান সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু করা এবং দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও নিজস্ব মতাদর্শ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন কোনোভাবেই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যাঘাত না ঘটায়, সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি।
সমাবেশের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশবার্তা/একে