গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনা এখনো বিবেচনায় রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআতি। তিনি জানিয়েছেন, কায়রো পূর্ণ শক্তি দিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতিহত করবে। ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যেকোনো অপচেষ্টাকে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবদেলআতি বলেন, গাজায় যদি জীবনযাপন অসম্ভব করে তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়, তবে সেখানকার বাসিন্দাদের 'স্বেচ্ছায় বাস্তুচ্যুতি'কে কোনোভাবেই স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ বলা যাবে না। এমন পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করাটা চরম জবরদস্তির শামিল, যা আন্তর্জাতিক আইন এবং দখলদারিত্বের অধীনে থাকা মানুষের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, মিসর এ ধরনের বাস্তুচ্যুতি মেনে নেবে না এবং হতেও দেবে না। ফিলিস্তিনিরা যেন নিজেদের মাতৃভূমিতেই শক্তভাবে টিকে থাকতে পারে, সে বিষয়ে মিশরের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবদেলআতি। ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়ে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘নীরব দখলদারিত্ব’ ও ‘কার্যত সংযুক্তিকরণ’ বলে বর্ণনা করেন। তার মতে, ইসরাইলের এ ধরনের পদক্ষেপ একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সামরিক শক্তির ব্যবহার যত তীব্রই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইসরাইল বা বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অর্জন কখনোই সম্ভব হবে না।
দেশবার্তা/এমআর