জেনারেশন জি বা জেন জি’র বাসযোগ্য ও আনন্দময় বিশ্বের সেরা শহর হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছে জাপানের রাজধানী টোকিও। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পর্তুগালের পোর্তো এবং তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।
সাময়িকী ‘টাইম আউট’-এর বিশ্বজুড়ে পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টাইম আউটের ২০২৬ সালের প্রকাশিত এই তালিকায় বিশ্বের ১৫০টি শহরের ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী প্রায় ৪ হাজার তরুণ-তরুণীর মতামতের ভিত্তিতে র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়। জরিপে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ, রেস্তোরাঁর মান ও খরচ, বিনোদন, হাঁটার সুবিধা, সামাজিক পরিবেশ এবং নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগের মতো বিষয়গুলো সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, জেন জি বাসিন্দাদের সার্বিক সুখ, সমৃদ্ধ বিনোদন ও চমৎকার নাইটলাইফের কারণে শীর্ষে অবস্থান করছে টোকিও। তবে শহরটিতে রাতের বিনোদন কতটা সাশ্রয়ী- এমন প্রশ্নে জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র এক-তৃতীয়াংশ তরুণ ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা পর্তুগালের পোর্তোর প্রধান শক্তি এর বন্ধুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ ও তুলনামূলক কম খরচ। সেখানে বাইরে খাওয়া, পানীয় গ্রহণ এবং শিল্প-সংস্কৃতির নানা আয়োজন উপভোগের সুযোগ তরুণদের আকৃষ্ট করেছে। তাছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ তরুণই পোর্তোকে একটি সুন্দর শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে মেলবোর্ন। জরিপে অংশ নেওয়া ৯৭ শতাংশ তরুণ জানান, শহরটিতে প্রায় প্রতিদিনই স্বাধীন থিয়েটার, লাইভ মিউজিক, কমেডি ও ইম্প্রোভ শোর মতো আয়োজন থাকে। তবে মেলবোর্নে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক বেশি।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্যের এডিনবরো। পর্যাপ্ত সবুজ প্রান্তর, নাইটলাইফ ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের জন্য এটি লন্ডনকে পেছনে ফেলেছে। পঞ্চম স্থানে থাকা চীনের সাংহাই সম্পর্কে জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন, সেখানে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও বন্ধুত্ব করা বেশ সহজ।
জেন জি’র জন্য সেরা ২০ শহর
জেনারেশন জি বা জেন জি তরুণদের জন্য বিশ্বের সেরা ২০টি শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে জাপানের রাজধানী টোকিও। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে পর্তুগালের পোর্তো ও অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন। তালিকার পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে যুক্তরাজ্যের এডিনবরো (চতুর্থ), চীনের সাংহাই (পঞ্চম), যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক (ষষ্ঠ), ডেনমার্কের কোপেনহেগেন (সপ্তম), জার্মানির বার্লিন (অষ্টম), স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া (নবম) ও থাইল্যান্ডের ব্যাংকক (দশম)।
এছাড়া এ তালিকার পরবর্তী ক্রমানুসারে রয়েছে ইতালির নেপলস (একাদশ), দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন (দ্বাদশ), পোল্যান্ডের ক্রাকোভ (ত্রয়োদশ), দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল (চতুর্দশ), ফ্রান্সের প্যারিস (পঞ্চদশ), গ্রিসের এথেন্স (ষোড়শ), মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি (সপ্তদশ), ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো (অষ্টাদশ), কানাডার ভ্যাঙ্কুভার (উনবিংশ) এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা (বিংশ)।
দেশবার্তা/একে