অস্ট্রেলিয়ার একটি গ্রামাঞ্চলে স্যুটকেসের ভেতর মানুষের মরদেহ থাকার খবরে তোলপাড় ও সম্ভাব্য হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছিল স্থানীয় পুলিশ। ঘটনাটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। তবে দীর্ঘ ফরেনসিক পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, স্যুটকেসের ভেতরের বস্তুটি কোনো মানুষের লাশ নয়; বরং দেখতে অবিকল মানুষের মতো একটি ‘সেক্স ডল’।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিডনি থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার (১৪৩ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ‘ওলেন’ নামের একটি ছোট গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। গত সপ্তাহে ওই এলাকার একটি সড়কে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি একটি স্যুটকেস দেখতে পেয়ে সন্দেহের বশে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পাওয়ার পরপরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। পরিত্যক্ত স্থানে মানুষের মরদেহ মেলার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী বিশেষ গোয়েন্দা শাখা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল। প্রাথমিকভাবে এটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড ধরে নিয়েই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়।
তবে সোমবার (১০ আগস্ট) পুলিশ জানায়, বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষার পর এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্যুটকেসে কোনো মানুষের মরদেহ ছিল না।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট লিন্ডা ব্র্যাডবেরি সাংবাদিকদের জানান, পুতুলটি এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে প্রথম দেখায় সেটিকে মানুষের মরদেহ বলেই মনে হওয়া স্বাভাবিক। এতে পরনে পোশাক ও মাথায় চুল ছাড়াও নাকে একটি পিয়ার্সিং ছিল। ঘটনাটিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিল পুতুলটির শরীরে থাকা কিছু দাগ, যা দেখতে অবিকল আঘাতের কালশিটে ও আঁচড়ের মতো লাগছিল। ফলে উদ্ধারকারীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে কোনো নির্যাতিত বা নিহত মানুষের দেহ বলেই ধরে নিয়েছিলেন। পরে পুতুলটি সংগ্রহ করে ল্যাবে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানোর পর আসল রহস্য উদঘাটিত হয়।
সুপারিনটেনডেন্ট ব্র্যাডবেরি বলেন, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে পুলিশ যে স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর বা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে, তাতে কোনো ভুল ছিল না এবং এই ভুল শনাক্তকরণের পর আপাতত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ ঘোষণা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে শুরুতেই খবর দেওয়া ওই দুই সাধারণ নাগরিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তিনি জানান, প্রথম দেখায় যে কারও মনে ভীতি জাগা স্বাভাবিক ছিল এবং তারা সঠিক কাজটিই করেছেন। ঘটনাটির আকস্মিকতায় ওই দুই ব্যক্তি কিছুটা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসল বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
বাস্তবসম্মত গায়ের গড়ন, পোশাক, চুল, নাকের পিয়ার্সিং এবং কালশিটে দাগের কারণে মানুষের লাশ ভেবে শুরু হওয়া এ অস্বাভাবিক তদন্ত শেষ পর্যন্ত একটি অদ্ভুত ভুল শনাক্তকরণের মাধ্যমেই সমাপ্ত হলো।
দেশবার্তা/একে