রাজশাহীর কাশিয়াডাঙ্গা থানাকে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ, সহায়তামূলক ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে অংশীজনদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে নগরের কারিতাস আঞ্চলিক কার্যালয়ের হলরুমে ‘অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ও কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন সভা’ শীর্ষক এ কর্মসূচির আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
সভায় শিশু আইন অনুযায়ী থানাকে শিশুবান্ধব করতে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। কেবল অবকাঠামোগত পরিবর্তনই নয়, শিশুদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ, নিরাপত্তার পরিবেশ, দ্রুত তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় মানসিক সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা।
‘সিটিজেন ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন’ (সিভিএ) প্রক্রিয়ায় কাশিয়াডাঙ্গা থানার সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই এ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) মীর মো. শাফিন মাহমুদ বলেন, শিশুদের জন্য থানাকে আরও নিরাপদ, সহায়ক ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো সংকটে শিশু থানায় এলে যাতে ভয় না পায় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পায়, সে জন্য পুলিশ সদস্যদের আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
এ সময় সভায় প্রাপ্ত বাস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্থাটির সিনিয়র ম্যানেজার লোটাস চিসিম বলেন, শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিশু, পুলিশ, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনসহ অন্যান্য বক্তারাও শিশুর সুরক্ষা ও অধিকার সচেতনতা বাড়াতে পরিবার ও গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, পুলিশ-প্রশাসন, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা এবং শিশু-যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নিখোঁজ বা নির্যাতনের শিকার হয়ে কোনো শিশু থানায় এলে তাকে আইনি সেবার পাশাপাশি সহমর্মিতাপূর্ণ পরিবেশ ও মানসিক সহায়তা দিতে পুলিশকে আরও সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকেরা।
দেশবার্তা/একে