রাজধানীতে আবারও বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। দিন ও রাতে বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বিশেষ করে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ওই সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বহুগুণ বাড়ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ৬ হাজার ৪৮৯ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে ৫৯৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
এর আগের দিন ২১ আগস্ট একই সময়ে ৫ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ২১৪ মেগাওয়াট।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ঢাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে ৮৫৪ মেগাওয়াট। একই সময়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে ৩৮৫ মেগাওয়াট। মূলত গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে এমন উল্লেখযোগ্য ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছে।
গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকা জোনে ৬ হাজার ২৫১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছিল। তার আগের দিন ১৯ আগস্ট লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৬৪০ মেগাওয়াট, যা গত ১৮ থেকে ২২ আগস্ট- এই পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এর আগে ১৮ আগস্ট সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ৬ হাজার ১৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে লোডশেডিং করতে হয়েছিল ১৫৪ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে না পারা এবং চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে চাহিদামতো গ্যাস না মেলায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
সম্প্রতি দেশজুড়ে তৈরি হওয়া গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায়। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করতে না পারায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে সন্ধ্যার পিক আওয়ারে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
দেশবার্তা/একে