ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী কাম্যা পাঞ্জাবি প্রথম বৈবাহিক জীবনে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কাননকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিজীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।
কাম্যার দাবি, প্রথম স্বামীর হাতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, শুটিংয়ে যাওয়ার আগে মুখের আঘাতের চিহ্ন মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখতে হতো। বাইরে থেকে কেউ যাতে কিছু বুঝতে না পারেন, সে চেষ্টাই করতেন সবসময়।
অভিনেত্রী বলেন, বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করলেও ভেতরে ভেতরে প্রতিনিয়ত ভেঙে পড়ছিলেন। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়েও নিজের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে অস্বস্তি ও লজ্জা অনুভব করতেন।
কাম্যার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে ঘরের ভেতরে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে সেই অবস্থাতেই সাজগোজ করে প্রকাশ্যে গিয়ে সম্মাননা গ্রহণ—এই বৈপরীত্য তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তার মনে প্রশ্ন জাগত, কীভাবে তিনি সবার সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে পুরস্কার নিচ্ছেন, অথচ ব্যক্তিগত জীবনে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, সেই সময় মানসিক যন্ত্রণায় অনেকবার নিজেকে বাথরুমে আটকে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেঁদেছেন। কোনো কোনো রাতে সেই কান্না থামত না, চলত পুরো রাতজুড়ে। বাইরে একজন সফল অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনে তাকে অসহনীয় মানসিক ও শারীরিক কষ্ট বহন করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
একপর্যায়ে নিজের জীবন নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন কাম্যা পাঞ্জাবি। তার ভাষ্য, কেন তিনি এমন একটি সম্পর্কে থেকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন সহ্য করছেন—এই প্রশ্নই তাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল। সেই সময়ের স্মৃতিচারণে তিনি নীরবে নির্যাতন সহ্য করা, নিজের যন্ত্রণা আড়াল করার চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত সেই জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
দেশবার্তা/একে