ভিয়েতনামে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের এক বড় মামলায় ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভিয়েতনামী গণমাধ্যম ‘ভিএনএক্সপ্রেস’ জানায়, হো চি মিন সিটি পিপলস কোর্ট আসামিদের বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন। মোট ২২৭ জন আসামির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বিচার প্রক্রিয়ায় আরও অন্তত ২০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের মার্চে। প্যারিস থেকে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তান সন নাত বিমানবন্দরে পৌঁছান ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের চার বিমানবালা। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১৫৭টি টুথপেস্টের টিউবের ভেতর থেকে ১০ কেজিরও বেশি মাদক জব্দ করা হয়।
বিমানবন্দরে ধরা পড়ার পর শুরু হওয়া ব্যাপক তদন্তে বেরিয়ে আসে এক নতুন তথ্য। তদন্তকারীরা দেখতে পান, বিমানবালারা মূলত অনিচ্ছাকৃতভাবেই এসব মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন। তারা জানতেনই না যে ওই পণ্যগুলোর ভেতরে গোপনে মাদক লুকানো ছিল। পরবর্তীতে ঘটনাটির মূল অনুসন্ধানে একটি বিশাল আন্তর্জাতিক মাদক পাচার সিন্ডিকেটের সন্ধান পান দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
তদন্তকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, চক্রটি ফ্রান্স থেকে বিভিন্ন প্রসাধন ও খাদ্যসামগ্রীসহ নিত্যব্যবহার্য পণ্যের ভেতরে গোপনে কায়দা করে মাদক ঢুকিয়ে ভিয়েতনামে নিয়ে আসত। দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক সরবরাহের জন্য তারা বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চক্রের সদস্যরা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, অন্যের নামে ভুয়া ব্যাংক হিসাব চালু রাখা এবং নানা ধরনের ডেলিভারি সেবার সুবিধা ব্যবহার করত। অত্যন্ত নিখুঁত ও কৌশলী উপায়ে এরা দেশের ভেতর মাদকের বড় চালান পৌঁছে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনের আইনজীবীদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে রায়ে প্রধান আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভিয়েতনাম বর্তমানে নিজেদের ফৌজদারি দণ্ডবিধি সংশোধনের অংশ হিসেবে মাদক পাচারসহ ছয়টি অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিলের প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে দেশটির সরকার সম্প্রতি আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিলেও সেসব নিয়ম এখনও কার্যকর হয়নি। যার ফলে বর্তমান আইনের অধীনেই বিশাল এই মাদক পাচার মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দেশবার্তা/একে