সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক হীরার গয়নার প্রদর্শনীতে পরিহিত পোশাক ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ভারতের দক্ষিণি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। পোশাকের কারণে নয়, বরং অনুষ্ঠানে দায়িত্বরত আলোকচিত্রীদের আপত্তিকর আচরণের কারণেই তিনি অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলে স্পষ্ট করেছেন।
উপস্থাপক রাজিনি হরিদাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া বলেন, অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রীরা তাঁর মুখের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর কোণ থেকে ছবি তুলছিলেন।
অভিনেত্রী বলেন, ‘তারা আমার মুখের দিকে মনোযোগ দিচ্ছিলেন না। আমি অস্বস্তি বোধ করেছিলাম। অস্বস্তি বোধ করলে শরীরী ভাষাতেও তার প্রভাব পড়ে। আমার মনে হয়েছিল, আমার ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অস্বস্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের অনেকেই তাঁর পোশাক পছন্দ ও শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ধরনের মন্তব্যের সমালোচনা করে ঐশ্বরিয়া প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি শুধু নারীর ক্লিভেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ? আমরা যেভাবে আচরণ করি, সেখানেও তো সংস্কৃতি আছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টিকে নিয়ে অতিরিক্ত চর্চা হওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রথম ২৪ ঘণ্টা আমি বিষয়টি নিয়ে হেসেছিলাম। কিন্তু সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে পরিমাণ আলোচনা তৈরি হলো, তাতে আমি হতবাক হয়ে যাই। আমরা কেন আমাদের জিডিপি নিয়ে আলোচনা করতে পারি না? কত বৃদ্ধ মা-বাবাকে পরিত্যক্ত হতে হচ্ছে, তা নিয়ে কেন কথা বলতে পারি না? আমার ক্লিভেজ নিয়ে এত তীব্র আলোচনা কেন হতে হবে?’
উল্লেখ্য, চিকিৎসা পেশা ছেড়ে অভিনয়ে আসা ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী ২০১৭ সালে মালয়ালম সিনেমা ‘নজান্ডুকালুডে নাট্টিল ওরিদাভেলা’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ‘মায়ানাধি’, ‘ভারাথান’, ‘আম্মু’ এবং মণি রত্নমের ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। তাঁর অভিনীত সর্বশেষ সিনেমা ‘আশা’ গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে।
দেশবার্তা/একে