গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের পাইকারি আড়তে সবজি বিক্রিতে রঙিন ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল বাতি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, এসব বাতির আলোয় ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, কাঁচা মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সতেজ ও আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের কয়েকটি সবজির আড়ত ঘুরে দেখা যায়, পণ্যের ওপর সরাসরি নীল, সাদা ও বিভিন্ন রঙের উজ্জ্বল আলো ফেলা হচ্ছে। এতে সবজির প্রকৃত রং ও দাগ অনেকটাই পরিবর্তিত দেখায়। দূর থেকে সবজিগুলো টাটকা ও চকচকে মনে হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, দোকানের আলোতে সবজির মান দেখে পছন্দ করার পর বাড়িতে নিয়ে গেলে অনেক সময় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। কিছু সবজিতে দাগ, নরম হয়ে যাওয়া অংশ, অতিরিক্ত পাকা ও নিম্নমানের পণ্যও মিশে থাকে। বাজারে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক আলোতে সবজির প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মনির হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘দোকানে আলোতে সবজিগুলো খুব টাটকা ও ভালো মনে হয়। কিন্তু বাসায় নিয়ে আলো ছাড়া দেখলে অনেক সময় পচা বা দাগযুক্ত সবজি চোখে পড়ে। তখন আর বিক্রেতার কাছে ফেরত যাওয়ার সুযোগ থাকে না।’
উপজেলার তেলিহাটি থেকে আসা রমজান নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘রঙিন বাতির কারণে সবজির আসল রং বোঝা যায় না। ভালো মনে করে বেশি দামে কিনে নিয়ে পরে বুঝতে হয় মান তেমন ভালো নয়।’
স্থানীয় ক্রেতারা বলছেন, সবজি বিক্রিতে আলো ব্যবহার করা হলেও তা যেন পণ্যের স্বাভাবিক রং ও মান পরিবর্তন করে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার পর্যায়ে না যায়। বাজারের আড়তগুলোতে এ ধরনের আলো ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ দাবি করছেন, রাতের বাজারে পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করতেই বিভিন্ন ধরনের বাতি ব্যবহার করা হয়। এ নিয়ে ক্রেতাদের প্রশ্ন, আলো যদি শুধু আলোকসজ্জার জন্য হয়, তাহলে পণ্যের ওপর এমনভাবে রঙিন আলো ফেলা হচ্ছে কেন, যাতে সবজির প্রকৃত চেহারা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে?
সচেতন ক্রেতারা বলছেন, কাঁচাবাজারে পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ থাকা জরুরি। বিশেষ করে পাইকারি আড়তে বড় পরিমাণে সবজি কেনার ক্ষেত্রে রঙিন আলো নয়, স্বাভাবিক আলোতে পণ্যের গুণগত মান দেখার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজারের মতো ব্যস্ত বাজারে এ ধরনের অভিযোগ নিয়মিত উঠলে সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের মতে, এতে ভালো মানের সবজি বিক্রিতে উৎসাহ বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ