জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আয়োজিত ‘হিম উৎসব’-এ পবিত্র কোরআনের 'সূরা নাস'-এর অপব্যাখ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একদল শিক্ষার্থী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে প্রক্টর বরাবর এই স্মারকলিপি জমা দেন। অভিযোগপত্রে তারা গত রাতে উৎসব চলাকালীন সূরা নাস-এর বিকৃত উপস্থাপন এবং এর প্রতিবাদ করায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে 'মব' তৈরি করে হামলার চেষ্টার বিচার দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে হিম উৎসবের মঞ্চে পালাগান চলাকালে সূরা নাস-এর বিতর্কিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। শিল্পীরা সূরাটি তিলাওয়াতের পাশাপাশি দাবি করেন যে, সেখানে আল্লাহ নাচার কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক এই ‘ধর্মীয় বিকৃতির’ প্রতিবাদ জানালে আয়োজকদের দ্বারা তারা শারীরিক লাঞ্ছনা ও হেনস্তার শিকার হন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধেও এই ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব এবং পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সাফায়েত মীর। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা হিম উৎসব আয়োজন বন্ধসহ তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন—ঘটনায় জড়িত আয়োজক ও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, বিশৃঙ্খলা রোধে হিম উৎসবের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আনা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার প্ররোচণা দেওয়া শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, "শিক্ষার্থীরা তাদের নৈতিক অবস্থান থেকে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আমরা এটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাতে হিম উৎসবের দ্বিতীয় দিনে পালাগান চলাকালে সূরা নাস-এর খণ্ডিত অংশ পাঠ করে 'যত নাচবি তত বাঁচবি' বলে মন্তব্য করেন এক বাউল শিল্পী।
এর প্রতিবাদে গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের সামনে স্লোগান দেন এবং পরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তখন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ