বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ স্বত্ব’ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ফিফা পিছু হটলেও এখনই বিষয়টি ছেড়ে দিচ্ছে না উয়েফা। এবার সরাসরি সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, এ পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনো ধরনের নথি বা ডিজিটাল তথ্য যেন ধ্বংস, পরিবর্তন কিংবা মুছে ফেলা না হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের হাতে আসা ওই চিঠিতে উয়েফা স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’ সংক্রান্ত এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, সালিস বা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি তারা সক্রিয়ভাবে ভাবছে।
উয়েফা সভাপতি ইনফান্তিনো ও ফিফাকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে লিখেছে, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন, যেন এই নোটিশে উল্লেখিত সমস্ত নথি ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সংরক্ষিত তথ্য সঠিকভাবে শনাক্ত ও সংরক্ষণ করা যায়।
প্রমাণ নষ্টের বিষয়ে উয়েফা আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে লিখেছে, এই নোটিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা তথ্য ধ্বংস, পরিবর্তন, গোপন বা মুছে ফেলা হলে তা প্রমাণ লোপাট বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা, প্রতিকার এবং প্রতিপক্ষের ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপের আবেদন করার অধিকার উয়েফা সংরক্ষণ করে।
শুধু ফিফা সভাপতিই নন; বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম, এবং সিওও কেভিন লামোরসহ পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও একই নির্দেশনা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী দলগুলোর সাথে যুক্ত জশুয়া কুশনার, গ্রেগ ম্যাফেই, জেপি মরগান ও ওপেনইকোনমিকসের কাছেও আইনি ব্যবস্থার বার্তা পাঠিয়েছে উয়েফা। তবে এসব বিষয়ে ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ জুলাই। বিশ্ব ফুটবলের ২১১টি সদস্য দেশকে লাভবান করার অজুহাতে 'এফএফই' নামের একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান খুলে বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা উন্মোচন করে ফিফা।
তবে এই উদ্যোগকে 'বিশ্বকাপ বিক্রির ষড়যন্ত্র' আখ্যা দিয়ে কড়া বিরোধিতা করে উয়েফা। একই সাথে উত্তর-মধ্য আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ার ফুটবল সংস্থা এএফসি-ও এতে অস্বীকৃতি জানায়। সর্বমুখী তোপের মুখে পড়ে গত ১ আগস্ট শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এই পরিকল্পনা বাতিল ঘোষণা করে ফিফা।
পরিকল্পনা বাতিল হলেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর থেকে চাপ কমছে না। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এমন নজিরবিহীন ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবল ‘সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে পারে না’।
ডেভন সফরকালে বার্নহ্যাম বলেন, আমি এখনো বিশ্বাস করি বিশ্ব ফুটবলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইনফান্তিনো সঠিক ব্যক্তি নন। যে পরিকল্পনাটি সামনে আনা হয়েছিল, তা বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে মারাত্মক আপত্তিকর ছিল। এমন একটি ঘটনার পর আমরা শুধুই অতীত ভুলে সব স্বাভাবিকভাবে মেনে নেব- তা হতে পারে না।
এর আগেই বিশ্ব নেতাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন বার্নহ্যাম।
দেশবার্তা/একে