গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে না; বরং সাংবাদিকদের মধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি করে একে অন্যকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সংবাদ প্রকাশে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। তবে সাংবাদিকদের মধ্যেই বিভাজন তৈরি করে একে অন্যকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ এ ধরনের সংস্কৃতি গণমাধ্যমের জন্য ইতিবাচক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত মান ধরে রাখতে দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। যোগ্যতার ভিত্তিতে গণমাধ্যম পরিচালিত হলে সাংবাদিকতার মান আরও উন্নত হবে এবং জনগণের আস্থাও বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সনদ বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সংস্কার নাকি সংশোধন- এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতপার্থক্য রয়েছে।
তার মতে, এসব বিষয়ে সংসদের ভেতরে আলোচনা হওয়াই গণতান্ত্রিক রীতি। বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদল যেন এমন অবস্থান না নেয়, যাতে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সেসব বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তথ্যমন্ত্রী জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার বিষয়েও বক্তারা মতামত তুলে ধরেন।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে