প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু। সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকের শুরুতেই দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষর হতে যাওয়া ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী।
ইয়ো হান-কু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ চুক্তি চূড়ান্ত ও কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে।
এর ফলে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহু দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানি বাংলাদেশে সফলভাবে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক কোরীয় প্রতিষ্ঠান এখানে বিনিয়োগে সাগ্রহে এগিয়ে আসতে চায়।
দক্ষিণ কোরীয় প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দেশের একাধিক বিকাশমান খাতে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে খেলনা তৈরি, ইলেকট্রনিকস, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কোরীয় বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
জাহাজ নির্মাণ খাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বৈশ্বিক দক্ষতা এবং বাংলাদেশের বিশাল ও সম্ভাবনাময় জনশক্তিকে সমন্বিত করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া চাইলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। সেখানে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করা বাংলাদেশি কর্মীদের সে দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সরাসরি কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানিগুলো যদি বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়, তবে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও অনুকূল নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কোরীয় বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে দেশে একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার যেসব সংস্কার ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তাও কোরীয় প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের এসব প্রস্তাব ও উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের গঠনমূলক প্রস্তাবনা দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দেশবার্তা/একে