নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনার দৃশ্য ধারণ করায় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত একাধিক সাংবাদিকের ওপর হামলা, হেনস্থা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা সোহেলের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বাগাতিপাড়ায় বড়াল ব্রিজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সোহেলের নেতৃত্বে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে আসে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
উপস্থিত সাংবাদিকরা ভাঙচুরের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে মিছিলকারীরা তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ। এ সময় দৈনিক সংগ্রামের বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি ফজলুর রহমান, এসএ টিভির প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম, সারা বাংলার জেলা প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম শরীফ এবং এশিয়ান টিভির স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল মজিদসহ কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্তরা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে সংরক্ষিত ফুটেজ ও ভিডিও মুছে দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিক্ষুব্ধ পক্ষ এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সোহেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্থার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হামলার শিকার সাংবাদিকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি/আরএইচ