চীনের অর্থনীতিকে আমূল বদলে দিয়ে দেশকে ‘বিশ্বের কারখানা’য় রূপান্তরকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঝু রংজি আর নেই।
বুধবার বেইজিংয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝু রংজি ১৯৯০ এর দশকে চীনের রাষ্ট্রীয় শিল্পখাতে আমূল সংস্কার আনেন এবং ২০০১ সালে দেশটিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অন্তর্ভুক্ত করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাপানকে টপকে যুক্তরাষ্ট্রপরবর্তী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে চীনের আত্মপ্রকাশের পেছনে তার এই পদক্ষপগুলোকে মূল চাবিকাঠি বলে মনে করা হয়।
হুনান প্রদেশে ১৯২৮ সালে জন্ম নেওয়া ঝু ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত চীনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে মুক্তচিন্তার কারণে ২২ বছর নিগৃহীত হন এবং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় গ্রামে নির্বাসিত থাকেন। পরে ১৯৭৯ সালে পুনর্বাসিত হয়ে রাজনীতিতে ফেরেন। ১৯৮৯ সালে সাংহাইয়ের মেয়র থাকাকালে সেনাপ্রয়োগ ছাড়াই বিক্ষোভ সামলে দূরদর্শিতার পরিচয় দেন তিনি।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ক্ষুরধার বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং নিজ কাজের ভুল স্বীকারের সাহসিকতার জন্য তিনি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন।
দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে তার বিখ্যাত উক্তি ছিল, ‘আমি ১০০টি কফিন প্রস্তুত রেখেছি; ৯৯টি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য এবং একটি আমার নিজের জন্য।’
কাজের প্রতি কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি ‘পাগলা ঝু’ নামেও পরিচিত ছিলেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, লোকসানি প্রতিষ্ঠানে ঋণ বন্ধ, কেন্দ্রীয় কর ব্যবস্থা জোরদার এবং ব্যক্তিগত আবাসন খাতের জোয়ার আনার মতো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন তিনি। দলীয় রক্ষণশীলদের তোয়াক্কা না করে নেওয়া তার এসব বৈপ্লবিক সংস্কারের ফলেই ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে চীনের বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ৮ শতাংশের উপরে থাকে। ২০০৩ সালে অবসর গ্রহণের পর থেকে বর্ষীয়ান এই টেকনোক্র্যাট নেতা লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিলেন।
দেশবার্তা/একে