বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মিলনমেলায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের টেকনাফ। হোস্ট কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা তরুণদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক উৎসব সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা তুলে ধরেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়া জবা পিস ক্যাম্পের সামনে অনুষ্ঠিত হয় ‘কালচারাল ফেয়ার অ্যান্ড মিউজিক ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে হোস্ট ও রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রায় ৫০০ ইয়ুথ পিসবিল্ডার অংশ নেন।
উৎসবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনধারা উপস্থাপন করেন। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, চাকমা, মারমা ও রাখাইন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীদের নাচ, গান, নাটিকা ও লোকজ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
মেলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পোশাকের স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। নিজস্ব সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরতে প্রতিটি স্টলে ছিল ভিন্নধর্মী আয়োজন।
দ্বিতীয় পর্বে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। হোস্ট ও রোহিঙ্গা তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “সংস্কৃতি মানুষে মানুষে দূরত্ব কমায় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধ তৈরি করে। এমন আয়োজন তরুণদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মংটিন অং বলেন, “ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মানবিক মূল্যবোধ আমাদের একত্রিত করে। তরুণদের নেতৃত্বে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করবে।”
অনুষ্ঠানে রাখাইন সম্প্রদায়ের গ্রামপ্রধান মংটিন অং, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম, সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সেডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম। সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেন নাজির হোসাইন, আসিফ মাহমুদ, আসমা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা।
আয়োজকরা জানান, ভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বন্ধুত্ব, সহনশীলতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তাঁদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও শান্তি, সহাবস্থান ও আন্তঃসম্প্রদায়িক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
প্রতিনিধি/আরএইচ