সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের সাধাপুর গোপের বাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠ থেকে উদ্ধার করা একটি প্রেসার কুকার বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার সূত্র ধরে নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন সদস্য আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ৯টি পাইপ বোমা ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মূলহোতা নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাধাপুরের লালটেক ঘোড়া মসজিদের মাঠে একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে কাপড়চোপড়, কোরআন শরিফ ও একটি প্রেসার কুকার দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা ড্রাম থেকে প্রেসার কুকারটি বের করে মাঠে রাখেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তি রাতে ড্রামটি সেখানে রেখে পালিয়ে যায়।
ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানান, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের তদন্তে মো. আরিফ হোসেন ও নাজমুল হাসান ওরফে ‘বোমারু মামুন’কে শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার রাতে কিশোরগঞ্জ থেকে অনুসরণ করে সাভারের হেমায়েতপুরে একটি বাস থেকে নামার পর আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি বিস্ফোরক, ব্যাগ, চাকু ও লাইটার উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে আরিফের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শ্যামপুর এলাকার আব্দুল জলিলের মালিকানাধীন একটি বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৯টি পাইপ বোমা, গানপাউডারসহ বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে আরিফের কাছ থেকে পাওয়া বোমাসহ মোট ১৪টি পাইপ বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত বোমার মধ্যে পাঁচটি রাতেই ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়। বাকিগুলো সাভার চামড়া শিল্পনগরের পাশে ধলেশ্বরী নদীর তীরে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করে সিটিটিসি। সে সময় বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
সিটিটিসি জানায়, বোমায় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এসব সারের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাড়িটির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, গত ২ আগস্ট আব্বাস আলী নামে একজন নিজেদের ড্রাইভার ও পাবনার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ভাড়া নেন। সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করার কথা বলে পরিবার নিয়ে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও ঘরের ভেতর বিস্ফোরক রাখার বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না।
সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধারের সূত্র ধরেই সাভারে কথিত জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সাধাপুরের প্রেসার কুকার বোমার সঙ্গে শ্যামপুরের বাড়ির বিস্ফোরকের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বা পালিয়ে যাওয়া কিছু আলোচিত জঙ্গি সদস্য নতুন করে ছোট ছোট সেল গঠন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন ও ৩১ জুলাই আশুলিয়া থেকে প্রেসার কুকার বোমা উদ্ধার করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কুমিল্লা ও কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণের সঙ্গে এসব ঘটনার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করছে সিটিটিসি।