এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) হাই স্কুল। এবার বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন শিক্ষার্থী। তাঁদের সবাই বিজ্ঞান বিভাগের বালিকা। এদের মধ্যে চারজন গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, গাকৃবি হাই স্কুল থেকে এবার মোট ৫৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে এবং একজন অকৃতকার্য হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে একই সঙ্গে আটজন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং তাঁদের সবাই বিজ্ঞান বিভাগের বালিকা হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। পাস করা ৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ২৮ জন, মানবিক বিভাগের ১৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১১ জন। পাসকারীদের মধ্যে ৩৩ জন বালিকা ও ১৯ জন বালক। এ ছাড়া ২৩ জন শিক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সারা দেশে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। জাতীয় গড়ের তুলনায় গাকৃবি হাই স্কুলের পাসের হার ৯৮ দশমিক ১১ শতাংশ।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত গাকৃবি হাই স্কুলে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৭২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।
ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে গৌরবময় অবস্থান ধরে রেখেছে, তেমনি গাকৃবি হাই স্কুলকেও আমরা সেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাই। গাকৃবির সার্বিক উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি গাকৃবি হাই স্কুলের সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে বিকশিত করে আলোকিত ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য।”
তিনি কৃতকার্য শিক্ষার্থী, তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি যারা প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “এই ফলাফল আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আদর্শ, দক্ষ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
প্রতিনিধি/আরএইচ