দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতায় ফিরল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে হারতে হলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ের সেই দুর্দশা কাটেনি। দ্রুত একের পর এক উইকেট হারিয়ে আবারও বড় বিপদে পড়ে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা। এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দলের সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে শান্তর ব্যাট থেকে। অন্যদিকে টানা তিন ইনিংসেই ডাক মারেন লিটন দাস।
চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৯৫ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন ছিল আরও ৫১ রান। তবে বিরতির পর আর কোনো নাটক জমেনি। প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদকে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরান নাথান লায়ন। তৃতীয় বলেই শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন এই অফ স্পিনার। ফলে দুই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৫৯ রান। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ। এর আগে এক ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সম্মিলিত স্কোর ছিল ১৮৭ রান, ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সাত উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি। তবে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢাকার জন্য যথেষ্ট হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্ক ছিলেন দুর্বার। মাত্র ১২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট পূর্ণ করেন অজি পেসার।
ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাকাইয়ে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন ভরাডুবি তাই বড় হতাশার। দুই দিনের টেস্টে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল, আর বাংলাদেশকে ফিরতে হলো বড় এক শিক্ষা নিয়ে।
দেশবার্তা/এমআর