বাংলা চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে সিলেটের জকিগঞ্জে জন্মগ্রহণ তিনি, বেঁচে থাকলে আজ ৫৬ বছরে পা দিতেন এই জনপ্রিয় নায়ক।
মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেন সালমান শাহ। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম সিনেমাতেই অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতি দিয়ে দর্শকের দৃষ্টি কাড়েন তিনি।
এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসেন সালমান শাহ। তাঁর প্রভাব শুধু চলচ্চিত্রের পর্দাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও ব্যক্তিত্ব—সবকিছুই সে সময়ের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল। ফলে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন একটি প্রজন্মের কাছে বিশেষ আবেগের নাম।
তবে তাঁর এই সাফল্যের পথচলা থেমে যায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সালমান শাহ। তাঁর অকালমৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে তৈরি করে গভীর শূন্যতা।
এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। চলচ্চিত্রে এসেছে পরিবর্তন, বদলেছে সময়, এসেছেন নতুন প্রজন্মের অনেক নায়ক। কিন্তু সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং তাঁর অভিনীত সিনেমা, গান ও বিভিন্ন দৃশ্য এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে।
জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে ভক্তদের স্মৃতিচারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে। মৃত্যুর বহু বছর পর জন্ম নেওয়া তরুণদের কাছেও তাঁর সিনেমা ও অভিনয় পরিচিত। চলচ্চিত্রে পরবর্তী সময়ে আসা অনেক নায়কও সালমান শাহকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্বল্প সময়ের জীবন ও চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার হলেও সালমান শাহর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বেঁচে থাকলে আজ হয়তো আরও নানা চরিত্রে দর্শকদের সামনে হাজির হতেন তিনি। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে পূরণ না হলেও দর্শকের কাছে সালমান শাহ এখনো রয়ে গেছেন চিরতরুণ এক নায়ক হিসেবে।
সময় বদলেছে, প্রজন্মও বদলেছে। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহর নাম এলেই ফিরে আসে নব্বইয়ের দশকের সেই জনপ্রিয় নায়কের স্মৃতি। জন্মদিনে তাই ভক্তদের স্মরণে আবারও সামনে আসে তাঁর অকাল থেমে যাওয়া চলচ্চিত্রযাত্রা।
দেশবার্তা/এমআর