মোহাম্মদ ইকবালের ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমা দিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকারের। গত ১ আগস্ট ঢাকায় সিনেমাটির মহরতে উপস্থিত হয়ে নিজের কাজের প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে এরই মধ্যে সিনেমাটি থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এমন গুঞ্জনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
গত শুক্রবার রাত থেকে ফেসবুকে মধুমিতার সিনেমা ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে প্রতিদিন এমন গুঞ্জন ছড়ায়। এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
একপর্যায়ে সিনেমা ছাড়ার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘সিনেমা-সংশ্লিষ্ট কেউ তো এমন ঘোষণা দেননি, তাহলে এ বিষয়ে কেন এত কথা হচ্ছে?’
পরিকল্পিতভাবেই একটি পক্ষ এই অপপ্রচার চালাচ্ছ উল্লেখ করে মধুমিতা বলেন, ‘একটি চক্র ইচ্ছা করে এমন কথা ছড়াচ্ছে। সিনেমার মহরতে অংশ নেওয়ার পর থেকেই একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কথা বলছে কেউ কেউ। বলা হলো, আমি নাকি কলকাতায় কাজ না পেয়ে বাংলাদেশের সিনেমা করছি। এখন আবার নতুন গুজব ছড়াচ্ছে। তারা যদি মনে করে আমি সিনেমাটি করছি না, তাহলে আর কী করার, সেটাই ছড়াতে থাকুক। আমি আমার কাজ করতে থাকি। এসব নিয়ে কথা বললে বরং তাদেরকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
এদিকে সিনেমাটির পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ‘গুলশানের চামেলি’র শুটিং শুরু হবে এবং প্রথম দিন থেকেই শুটিংয়ে অংশ নেবেন মধুমিতা।
রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার দিক নিয়ে সিনেমাটির গল্প গড়ে উঠেছে। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন যৌনকর্মী, যিনি অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলার শিকার হন। এই চরিত্রটিতেই অভিনয় করবেন মধুমিতা।
পশ্চিমবঙ্গের টেলিভিশন ধারাবাহিকে মধুমিতা সরকারের পথচলা বেশ সফল। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ নাটকে ‘পাখি’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পান তিনি। এর আগে ২০১৬ সালে পারভেজ আমিন পরিচালিত ‘মেঘবালিকা’ নাটকে মোশাররফ করিমের বিপরীতে বাংলাদেশেও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এবার তিনি ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে ‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমার ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা ইকবাল। আবদুল্লাহ জহির বাবুর চিত্রনাট্যে এতে আরও অভিনয় করার কথা রয়েছে রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, আমিন খান, বাপ্পারাজ ও মিশা সওদাগরের।
দেশবার্তা/একে