দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। প্রথমবারের মতো এআই-নির্ভর শিক্ষা নীতি গবেষণার লক্ষ্যে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) স্থাপন করা হয়েছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড এডুকেশন পলিসি ল্যাব’।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জয়নাল আবেদীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আরেফিন কাওসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মো. আবদুর রহমান ফরহাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বর্তমানে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরকারী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাঠদান, মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং জ্ঞান সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় এআই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব এখন পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে শিক্ষাক্ষেত্রে এআই-এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। ডুয়েটের কারিকুলাম, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধাপে ধাপে এআই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং সরকার ও ইউজিসির তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত এই ল্যাবকে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও অভিহিত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বলেন, নতুন এই ল্যাব উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে সহায়ক হবে। শিক্ষা নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এআই-এর ব্যবহার দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউএটিএফএস-এর চেয়ারপারসন ড. মো. শওকত ওসমান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. কামাল-আল-হাসান এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তহুরা পারভীনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ।
ইউজিসির হিট প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই ল্যাবটি বাংলাদেশের শিক্ষাখাতে এআই-ভিত্তিক নীতি গবেষণার প্রথম উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি দেশের টেকনিক্যাল ও উচ্চশিক্ষা খাতের সংস্কার, আন্তর্জাতিক মান অর্জন এবং বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পথে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিনিধি/একে