৫৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, তীব্র সংবাদমাধ্যমের নজরদারির মধ্যে তাকে দুবার বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথমবার টম ক্রুজের সঙ্গে। তারা ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন এবং ২০০১ সালে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয়বার সংগীতশিল্পী কিথ আরবানের সঙ্গে
কিথ আরবানের সঙ্গে বিচ্ছেদ এবং টম ক্রুজের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন হলিউডের প্রথম সারির তারকা নিকোল কিডম্যান। টম ক্রুজের স্ত্রী হওয়ার কারণে তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন সতর্কবার্তা পেয়েও তিনি তখন তা নিয়ে ভাবেননি বলে জানিয়েছেন।
ভোগ ম্যাগাজিনকে দেয়া নতুন এক সাক্ষাৎকারে ৫৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, তীব্র সংবাদমাধ্যমের নজরদারির মধ্যে তাকে দুবার বিবাহবিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রথমবার টম ক্রুজের সঙ্গে। তারা ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন এবং ২০০১ সালে বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয়বার সংগীতশিল্পী কিথ আরবানের সঙ্গে। তাদের বিয়ে হয়েছিল ২০০৬ সালে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কিডম্যান কিথ আরবানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। কারণ হিসেবে দাম্পত্য সমস্যার পাশাপাশি মতের অমিলের কথা উল্লেখ করেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে আদালতের বাইরে দুই তারকার বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।
দ্বিতীয় বিবাহবিচ্ছেদের সময়টা জীবনের কঠিন এক অধ্যায় ছিল বলে জানান কিডম্যান। তিনি বলেন, ‘আমি এটা আশা করিনি। আমার জীবন কেমন হবে, তা নিয়ে আমার একটা ভিন্ন ধারণা ছিল। কিন্তু এখন বাস্তবতা এটাই। আপনি নানা পরিকল্পনা করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক কিছু ভাবেন, তারপর দেখেন সবকিছু সেভাবে হচ্ছে না। তখন আপনাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। ভবিষ্যৎ এখন আমার কাছে পুরোপুরিই অজানা।’
nicole_kidman_vogue
নিকোল কিডম্যান। ছবি: ভোগ
সময়টা ভয়ংকরও ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কিডম্যান বলেন, একটা সময় তিনি খুব ভয় পেয়েছিলেন এবং নিজেকে ভীষণ অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন মনে হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘একসময় আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম এবং গভীরভাবে অসহায় বোধ করছিলাম। এটা খুবই কঠিন অনুভূতি। তখন মনে হচ্ছিল, আমি হয় এটা মোকাবেলা না করে গুটিয়ে যাব, নয়তো প্রচণ্ড আশাবাদ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব।’
টম ক্রুজের সঙ্গে বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা দ্বিতীয়বারের বিচ্ছেদের সময় সংবাদমাধ্যমের চাপ সামলাতে তাকে সাহায্য করেছে কিনা—জানতে চাইলে কিডম্যান বলেন, ‘প্রতিবারই সবকিছু নতুন।’
ক্রুজকে বিয়ে করার সময় কিডম্যানের বয়স ছিল ২২ বা ২৩ বছর, আর ক্রুজের ২৮। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ আমার বয়স ২২-২৩, আর আমার স্বামী একজন বিশাল তারকা। কিন্তু সবকিছুই আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। আমরা পাগলের মতো প্রেমে পড়েছিলাম, ব্যাপারটা এতটাই সহজ ছিল।’
কিডম্যান জানান, তখন অনেকেই বলেছিলেন, টম ক্রুজের স্ত্রী হওয়া তার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে।
অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মানুষ আমাকে বলত, “এটা তোমার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলবে।” আমি বলতাম, “আমি পরোয়া করি না। আমি প্রেমে পড়েছি। আমি বিয়ে করতে চাই”।’
পরে যখন সত্যিই ক্রুজের স্ত্রী হিসেবে বেশি পরিচিত করা হচ্ছিল, তখনও তিনি তা নিয়ে বিচলিত হননি। কিডম্যান বলেন, ‘তখন তারা বলল, “দেখলে, আমরা তো বলেছিলাম।” আমি বললাম, “তাতে কী? আমি কি যাকে ভালোবাসি, তাকে বিয়ে করতে পারতাম না? অবশ্যই আমি আমার ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতেও রাজি ছিলাম। আমি পরোয়া করি না”।’
দেশবার্তা/এমআর