বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে সাময়িক বিলম্ব হলেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, আজ সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকে এলএনজি খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং দুপুরের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর সার্কিট হাউসে যশোর জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগরে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে বাধা তৈরি হয়। এতে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক চাপ তৈরি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নয়নে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এ কূপ থেকে অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর চাপ কিছুটা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যশোরবাসীর জন্য আরেকটি সুখবরের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যশোরে পূর্ণাঙ্গ করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) সেবা চালু করা হবে। গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসার জন্য যাতে অন্য জেলায় যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যশোরে পূর্ণাঙ্গ সিসিইউ চালু হলে জেলার গুরুতর হৃদরোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে জটিল হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে অন্য জেলায় যেতে হয়। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে এ চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় সরকার সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, এলএনজি আমদানি ও দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি ঘাটতি দ্রুত পূরণের চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। পাশাপাশি আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল, সেটিও কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে