ইংলিশ ফুটবলে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়ম মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ক্লাবটি। তবে তাদের কী শাস্তি হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শুক্রবার ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এর সাংবাদিক ডেভিড অর্নস্টেইন সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাধীন কমিশন ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে কেবল একটি থেকে সিটিকে অব্যাহতি দিয়েছে। রায়ের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সূত্রগুলো পরিচয় প্রকাশ করেনি।
তবে এ রায়ের মাধ্যমেই মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ম্যানচেস্টার সিটি ফলাফলের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর আপিল প্রক্রিয়া বাকি থাকায় ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শাস্তির ক্ষেত্রে পয়েন্ট কর্তন, জরিমানা কিংবা অন্য যেকোনো সিদ্ধান্তের সব সম্ভাবনাই উন্মুক্ত রয়েছে।
২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, ফুটবলার ও কোচের পারিশ্রমিকের পূর্ণাঙ্গ হিসাব গোপন করা, উয়েফার আর্থিক নীতি অমান্য করা এবং প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল ম্যানচেস্টার সিটি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মামলাটির শুনানি শুরু হয় এবং প্রায় ১২ সপ্তাহ পর একই বছরের ডিসেম্বরে শুনানি কার্যক্রম শেষ হয়। তবে স্বাধীন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স গত আগস্টেও স্বীকার করেছিলেন, রায় আসতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগছে।
স্বাধীন কমিশন রায় প্রদান করলেও আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কী ধরনের শাস্তি কার্যকর হবে, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ কিংবা ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
দেশবার্তা/একে