সমাজে নারীদের জড়িয়ে যত ধরনের অপকর্ম ঘটে, সেসবের সঙ্গে বিরোধী দল জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর শহীদ মজাফরুল মনির উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নদীতীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও ফ্যাসিবাদ জড়িত।’
এ্যানি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব রক্ষায় সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। রহমতখালী নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, লক্ষ্মীপুরের আয়োজনে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার প্রায় ১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে। ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও-সিমেন্টের মাধ্যমে তিনটি প্যাকেজে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।
এর আগে অনুষ্ঠানে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে এই কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীতীরের ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনবসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা সুরক্ষায় সহায়তা করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে এলাকার মানুষ নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। প্রতিবছর নদীর ভাঙনে বসতভিটা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নদীতীর সংরক্ষণের কাজ যথাযথভাবে ও দ্রুত শেষ হলে ভাঙনের তীব্রতা কমার পাশাপাশি মানুষের জানমাল ও সম্পদ রক্ষা হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা বিএনপি নেতা ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশবার্তা/এসআইএস/একে