ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত গুলশানের চামেলি সিনেমার নাম ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সিনেমাটির মহরত ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়ে নতুন এই যাত্রা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস, দায়িত্ববোধ ও বাংলাদেশি দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানান অভিনেত্রী।
মধুমিতা বলেন, ‘আমি একটাই কথা বলব- এতটা ভালোবাসা পেয়ে আমি সত্যিই অনেক আপ্লুত। এত পজিটিভিটি আর শুভশক্তি নিয়ে যখন যাত্রাটা শুরু করছি, এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে! সবার এত এত আশীর্বাদ পাচ্ছি, সিনেমাটা ভালো হতে বাধ্য।’
‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকের ‘পাখি’ চরিত্র দিয়ে একসময় বাংলাদেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান মধুমিতা। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা ১০–১২ বছর ধরে আমাকে ‘পাখি’ হিসেবে চিনেন। এবার আমি চাই, আপনারা আমাকে ‘চামেলি’ হিসেবে চিনুন ও ভালোবাসুন। সত্যি নিজেকে প্রচণ্ড ভাগ্যবতী মনে হচ্ছে। সবার ভাগ্য এমন হয় না।
বাংলাদেশি দর্শকদের প্রত্যাশাকে নিজের জন্য বড় দায়িত্ব বলেও মনে করছেন এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষ্য, ‘সবার এত আগ্রহ, ভালোবাসা দেখে আমি অনেকটা ভয় পেয়ে গেছি। এটা তো অনেক বড় দায়িত্ব। ছবিটা মুক্তির পর আপনারা আগ্রহ নিয়ে দেখতে যাবেন। আমি চাই না, আপনারা কোনোভাবে নিরাশ হন। এ চরিত্রটাকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে, এতে ভালো আর খারাপের মাঝে একটা সূক্ষ্ম ফারাক আছে। সেটা সামান্য এদিক-ওদিক হলেও অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই চরিত্রটা করা আমার জন্য অনেক বড় দায়িত্ব। আশা করি, আপনাদের নিরাশ করব না।’
বাংলাদেশে কাজ করার ইচ্ছা অনেক দিনের জানিয়ে মধুমিতা বলেন, ‘অনেক বছর ধরে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। এবার এই সিনেমার মাধ্যমে এলাম। এত দারুণ সব কাস্ট অ্যান্ড ক্রু পেয়েছি যে মনে হচ্ছে, যা হয় মঙ্গলের জন্যই হয়। যে ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে এই যাত্রা শুরু করলাম, তা যেন শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। আপনারা যে বিশ্বাস ও সম্মান নিয়ে আমাকে এনেছেন, আমি যেন কাজের মাধ্যমে তার সঠিক মর্যাদা রাখতে পারি।’
বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে রিসার্চ করার কিছু নেই। এই দেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আজকের নয়। ইনস্টাগ্রামে আমার যে পেজ, সেটা একজন বাংলাদেশি ভক্ত তৈরি করে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পেয়েছি। বলতে গেলে, এখানেই মানুষ আমাকে বেশি চেনে।’
কী কারণে গুলশানের চামেলি সিনেমায় অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মধুমিতা বলেন, প্রথম যখন আমার কাছে যোগাযোগ করা হয়, ‘গুলশানের চামেলি’ নামটা শুনেই ভাবছিলাম, চরিত্রটা কেমন হবে, আমার কমফোর্ট জোনের হবে কি না। পরে গল্পটা পড়ে বুঝলাম, এমন চরিত্র আগে করিনি। পরিচালকের বর্ণনা শুনে মনে হয়েছে, এই ছবির মাধ্যমেই বাংলাদেশে আমার যাত্রা হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশি খাবারের প্রতিও আগ্রহের কথা জানান অভিনেত্রী। তিনি বলেন, কাচ্চি বিরিয়ানি, ইলিশ পোলাও ও চিকেন ঘি রোস্ট খেতে চান। দেশে ফেরার আগে ফুচকাও চেখে দেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
গুলশানের চামেলি সিনেমায় মধুমিতার পাশাপাশি অভিনয় করছেন আজমেরী হক বাঁধন, আমিন খান, ওমর সানী, রোজিনা, মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকারসহ আরও অনেকে। চলতি বছরের শেষ দিকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দেশবার্তা/একে